হোমপেজ

বাংলাদেশ একটি নদী মাতৃক দেশ, কিন্তু বিষয়টি এখন শুধু পাঠ বইয়ের পাতায় রয়ে গেছে, বাস্তবতা একটু ভিন্ন। এক সময় আমাদের কে বলা হতো মাছে ভাতে বাঙ্গালী। কিন্তুু এখন সেটাও কল্পনার থেকে গেছে। আজকে আমাদের এমন অবস্থা যে, উক্তিটির সঠিক মূল্যয়ন করতে পারছিনা। এর মূল কারন হলো খাদ্য সমস্যা। এই সমস্যা উন্নতি ও অগ্রযাত্রার পথে অন্তরায় ।

আমরা জানতাম আমাদের দেশ একটি সোনার দেশ , কথাটা একাংশে সত্যি, কেননা এদেশের মাটি সোনার চেয়ে খাটি, এদেশের মাটিতে হয়না এমন কিছু নাই , তাই সর্বপ্রথম আমাদেরকে মাটির সর্বত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য যেটা করতে হবে ,যে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ গ্রামে লক্ষ রাখতে হবে যাতে করে আমরা আমাদের মৃত্তিকার ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি।

কৃষি কাজের মাধ্যমে এর সর্বত্তম ব্যবহার করতে পারি। কিন্তু আজকে আমরা সবাই শহর মুখী, গ্রামকে নিয়ে কেউ চিন্তা করি না।এক সময় আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণর্ ছিল, কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিকুলতার কারনে আমরা খাদ্য ঘাটতির মধ্যে পড়েছি। আমাদের দেশের শিক্ষিত যুব সমাজ যদি কৃষিতে মনোনিবেশ করে,তবেই হয়তো বাংলাদেশ আবার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করবে এবং দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে।

আমদের এই ওয়েব পেজ তৈরির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষিত যুব সমাজকে কৃষিতে উৎসাহিত করা এবং আমরা যদি তা করতে পারি তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। আমাদের এই ওয়েব পেজটাতে কৃষির প্রত্যেকটি বিষয়ের উপাদান ও উপকরন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। যাতে করে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত হতে যে কেউ এখান থেকে যেমন তথ্য নিতে পারবেন, তেমনি কৃষির বিষয়ক নানান নতুন নতুন তথ্য দিতে পারবেন যা দ্বারা দেশ ও দশের বিশেষ উপকার সাধিত হয়।

আমাদের ওয়েব পেজটা তৈরী করতে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রির্সাস কাউন্সিল,কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর,কৃষি তথ্য সার্ভিস,কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট,ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট,মৃত্তিকা গবেষণা ইন্সটিটিউট,পশু সম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট,মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাশরুম গবেষণা কেন্দ্র,রাজশাহী ছাগল উন্নয়ন খামার,রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া,কৃষিবিদ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও কৃষক পর্যায় থেকে তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করেছি। এই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি যে, আমরা অনেক এগিয়ে গেছি কৃষিতে কিন্তু এর তেমন কোন প্রতিফলন ও প্রকাশ নেই যা সবাই জানতে পারে। তাদের জন্যই ওয়েব পেজটা তৈরী করা।

 

কৃষির এমন সব তথ্য ও প্রযুক্তি উদ্ভব হয়েছে যার ব্যবহার সচরাচর চোখে পড়েনা । আমাদের উেদশ্য হলো মানুষকে কৃষির নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করা। আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের কৃষির মোটামুটি সবগুলো সেক্টরকে একত্রে নিয়ে আসতে, যাতে করে যুব সমাজ এখান থেকে তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে দেশ ও জাতির উপকার করতে পারে ।

আমাদের এই ওয়েব পেজ থেকে আপনি শষ্য, ফল, ফুল, মাছ, গবাদিপশু এর সম্পর্কে সব রকমের তথ্য পাবেন এবং আরও পাবেন কৃষি প্রযুক্তির নতুন নতুন ব্যবহার এবং যদি আপনাদের সহযোগিতা পাওয়া যায় , তবে হয়তো আমরা এগুলোর বিপণন ব্যবস্থা নিয়ে লিখতে পারবো আমাদের এই ওয়েবপেজটাতে ।

আমাদের দেশে এমন অনেক মানুষ আছে যারা সঠিক দিক নির্দেশনা এবং প্রযুক্তির অনভিক্ততা কারনে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাতে পারছেনা। তাদের কে কৃষি এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে অবগত করাই আমাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস।যদি তাদেরকে এই কৃষি কাজে আনতে পারি তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে এবং পতিত জায়গায় সর্বত্তম ব্যবহার হবে।

 

 

Newsflash

বাড়ির আবর্জনা থেকে সার তৈরি

বাড়িতে থাকা আবর্জনা থেকে কিভাবে সার তৈরি করা যায় তার কয়েকটি পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।

আবর্জনা সার :

কৃষি ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় আবর্জনা সার। এ সারে রয়েছে গোবর, গবাদিপশুর ফেলে দেয়া বিচুলি বা খড়, কাঁচা ঘাস, পাতা প্রভৃতি।

সাধারণত গবাদিপশুর গোবরকে কাঁচা অবস্খাতেই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাড়ির আবর্জনা অর্থাৎ গাছের ঝরা পাতা, গবাদিপশুর খাবারের ফেলে দেয়া অংশ, শাকসবজির আবর্জনা আমরা সার হিসেবে ব্যবহার না করে জালিয়ে নষ্ট করি।

অথচ আমরা যদি একটু সচেষ্ট হই তাহলে এই আবর্জনা থেকেও সার তৈরি করতে পারি। বাড়িতে একই স্খানে গোবরকে জমা করে রাখতে হবে এবং সার হিসেবে প্রয়োগ করার অন্তত সাত দিন আগে তাকে রোদে শুকিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। সেই সাথে বাড়ির আবর্জনাগুলোকে একটি গর্ত করে জমিতে রাখতে হবে। প্রয়োগ করার আগে এগুলোকে তুলে দুই-তিন দিন রোদে শুকিয়ে গোবরের সাথে সমপরিমাণে মিশিয়ে দিতে হবে। অপর দিকে বাড়ির চার দিকের আবর্জনা যেমন গাছের শুকনো পাতা প্রভৃতিকে এক স্খানে জমিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ছাই বানাতে হবে। শুকনো গোবর ও পচা আবর্জনা এবং ছাইয়ের মিশ্র্রণ বানিয়ে আবর্জনা সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সবুজ সার :

শাকসবজি ও গাছপালার খাবারের জন্য সবুজ সারের গুরুত্ব অন্যান্য সারের চেয়ে অনেক বেশি। তা ছাড়া, এ সার যেকোনো সময় প্রয়োগ করা যায়। জমিতে নাইট্রোজেনের জন্য সবচেয়ে বেশি চাষ করা হয় শুঁটিজাতীয় ফসলের । শুঁটিজাতীয় ফসল প্রতি একরে ৩ থেকে ১০ টন সবুজ পদার্থ উৎপাদন করে। আবার যদি ফসল চাষের সময় লাইনে লাগানো হয় তবে আগাছাকেই সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

পাতা সার :

এই সার মূলত গাছের পাতায় প্রয়োগ করা হয়। গাছের পাতায় খাবার স্প্রে করে বা ছিটিয়ে দিলে পাতার মাধ্যমে গাছ খুব তাড়াতাড়ি সে খাবার নিতে পারে। গাছের পাতায় সার দেয়া হয় দুধরনেরন্ধ

ক. নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি রাসায়নিক মুখ্য পোষক খাবার।

খ. অনুপোষক সার যেমনন্ধ বোরন, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম প্রভৃতি।

পাতায় পাতা সার স্প্রে বা ছিটানোর আগে পাতার দুপাশে পরিষ্কার পানি বা ১ শতাংশ ভিম পাউডার

পানির মিশ্রণে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

পাতা সার প্রয়োগের আগে কয়েকটি ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবেন্ধ :

ক. কী ধরনরে সার প্রয়োগ করতে হবে।

খ. এক সাথে দুধরনের সার প্রয়োগ করবেন।

গ.পাতা সার প্রয়োগ করতে হবে শীতকালে।

ঘ. পাতা সার সকাল ৮টার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে।

ঙ. এই সার প্রয়োগের সময় একটি ব্যাপার লক্ষ রাখতে হবে, যাতে পাতার দু দিকেই সার লাগে।

চ. সেই সাথে খেয়াল রাখবেন পাতা সার যাতে ফুলে না পড়ে। অন্যথায় ফুলে লাগলে দাগ পড়ে যাবে।

ছ. প্রথম পাতা সার অর্থাৎ মুখ্য পোষক সার ১০ দিন অন্তর প্রয়োগ করবেন এবং অনুপোষক সার দিতে হবে এক বা দুমাস পরপর।

কম্পোস্ট সার :

ফল ও ফুলের চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উত্তম সার হলো কম্পোস্ট সার। এ সার সহজেই চাষিরা নিজেদের ঘরেই তৈরি করতে পারেন। কম্পোস্ট সার তৈরি করতে প্রয়োজন হয় খামারের মিশ্র আবর্জনা এবং গোয়ালের আবর্জনা ৪০০ ভাগ, গবাদিপশুর মলমূত্রে ভেজা আবর্জনা ৫৬ ভাগ, তাজা গোবর ৬০ ভাগ, কাঠের ছাই ৬ ভাগ।

সেই সাথে মেশাতে হবে ২০ কেজি হাড়ের গুঁড়ো এবং ৮ কেজি গাঁজানো গোবর। তবে আমাদের দেশে হাড়ের গুঁড়োর অভাব রয়েছে বা এ কাজ কেউ করতে চান না। তারা এর পরিবর্তে সরষের খৈলও প্রয়োগ করতে পারেন। এই সব দ্রব্যের মিশ্রণ তৈরি করে দুদিন পর থেকে খামারের শাকসবজিতে প্রয়োগ করতে পারেন।